আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ABCA এবং BCYSA এর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত
২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতির জন্য এটি এক গৌরবের দিন, এক শোকের দিন, আর ভাষার জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার রাজপথ। তাঁদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি ভাষাগত বৈচিত্র্য, সংস্কৃতির মর্যাদা এবং মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছে।
এই বিশেষ দিনে বিশ্বব্যাপী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নানান ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (ABCA) এবং বাংলাদেশ-চায়না ইউথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (BCYSA) যৌথভাবে আয়োজন করে “Language as a Bridge: Sharing the Cultural Beauty of Bangladesh and China” শিরোনামে এক ব্যতিক্রমধর্মী ওয়েবিনার। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন BCYSA-এর প্রকাশনা সম্পাদক এবং চীনের ঝেংচৌ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল তানিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো ওয়েবিনার শুরু হয় পবিত্র আবেগের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর মি. লি শাওপেং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ABCA ও BCYSA-এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অ্যালামনাই ও সদস্যবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে BCYSA-এর সভাপতি ডা. মোঃ মনিরুজ্জামান শিহাব ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে এই আয়োজনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুন নাহার। তাঁর উপস্থাপনায় ভাষার ভূমিকা ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
ওয়েবিনারটি আরও প্রাণবন্ত করে তোলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এমডি বাপ্পি শেখের চাইনিজ গান পরিবেশনা। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশিত গান উপস্থিত সকলের মন কাড়ে এবং এক অনন্য সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সেতুবন্ধন তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষিকা মিস লিও লুসি উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি দুটি সুন্দর বাংলা গান পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিবেশনা দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে ভাষা সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি মি. লি শাওপেং বলেন, “ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হৃদয়ের সেতু। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এই সেতুকে আরও সুসংহত করবে।” এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন, রমজানের পর থেকে বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলা ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন ABCA-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহাবুল হক। তিনি আয়োজনের সফলতা তুলে ধরে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক সংগঠন ABCA ও BCYSA-এর পক্ষ থেকে সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
Raoha
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : news.bcysa@outlook.com।