“ড্রিম বিগ, প্রিপেয়ার স্মার্ট” শীর্ষক ওয়েব সেমিনার অনুষ্ঠিত: শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনা দিলেন ড. মো. বাহারুল ইসলাম
বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিসিওয়াইএসএ)-এর উদ্যোগে গত ২ ৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার “ড্রিম বিগ, প্রিপেয়ার স্মার্ট: শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইন” শীর্ষক একটি সমৃদ্ধ, প্রাণবন্ত ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব সেমিনার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নিজেকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা গাল্ফ কোস্ট ইউনিভার্সিটি-এর ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটিং অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো. বাহারুল ইসলাম।
সেমিনারের শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের সামনে একটি চিন্তাপ্রসূত প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়—“আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ারকে একটি শব্দে প্রকাশ করুন।” অংশগ্রহণকারীদের উত্তরে উঠে আসে স্কলার, এন্ট্রেপ্রেনার, হার্ভার্ড, ক্রস-বর্ডার সার্ভিস, জব – এর মতো নানা অনুপ্রেরণাদায়ক শব্দ। ড. বাহারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উত্তর শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ও ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, সফলতার প্রথম ধাপ হলো নিজের স্বপ্নকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
আলোচনায় তিনি বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা, বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও অটোমেশন-এর দ্রুত বিস্তারের প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ ধীরে ধীরে অটোমেশনের আওতায় চলে যাচ্ছে, ফলে কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যারা সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে উন্নত করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।
উদ্যোক্তা হওয়ার প্রসঙ্গে ড. ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত গবেষণা, সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং কার্যকর বিপণন কৌশলের অভাবে অনেক স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার ভাষায়, ধীরগতির শুরু মানেই ব্যর্থতা নয়; বরং সঠিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকতে হলে শিখতে হবে, মানিয়ে নিতে হবে এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দক্ষতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ। ড. ইসলাম বলেন, “সনদপত্র হয়তো একটি দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু দক্ষতাই মানুষকে সেখানে টিকে থাকতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।” তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নিজেদের উন্নয়ন মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি আগামীকাল আজকের চেয়ে ভালো হয়, তবে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি একটি বাস্তব উদাহরণও তুলে ধরেন। এক ব্যক্তি তার মাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেন। পরে সেই অ্যাপ সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে তাকে চাকরি ও ব্যবসায়িক সুযোগ এনে দেয়। এই উদাহরণের মাধ্যমে তিনি বোঝান, বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধানই বড় সুযোগের দ্বার খুলে দিতে পারে।
ড. ইসলাম সফলতার একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সূত্রও উপস্থাপন করেন: সাকসেস = ভিশন + স্ট্র্যাটেজি + ডিসিপ্লিন
তিনি শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে, লক্ষ্যকে ছোট ধাপে ভাগ করতে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে এবং অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে উৎসাহিত করেন। বাঁশ গাছের বৃদ্ধির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও, ধারাবাহিক প্রস্তুতির ফল একসময় দ্রুত ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সেমিনারের শেষাংশে তিনি ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। এর মধ্যে ছিল দ্রুত শেখার ক্ষমতা তৈরি করা, মেন্টর খোঁজা, প্রশ্ন করতে শেখা, এবং চ্যাটজিপিটি ও ডিপসিক-এর মতো এআই টুলকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তিনি ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন এবং প্রতিদিন অন্তত ১% উন্নতির মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্যও তিনি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন। বিদেশে পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণায় আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট পজিশনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার বড় অংশ অর্জন করতে হবে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে গভীরভাবে জানতে হবে, এবং নিজের মূল ক্ষেত্রের বাইরে কী ধরনের অবদান রাখা সম্ভব, সে প্রস্তুতিও রাখতে হবে। পুরো সেমিনারটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ী ও সময়োপযোগী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট - বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে হবে, এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফলতার পথে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিসিওয়াইএসএ) আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ড. মো. বাহারুল ইসলাম - এর প্রতি তার মূল্যবান সময়, অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনার জন্য। একই সঙ্গে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে বিসিওয়াইএসএ-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Raoha
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : news.bcysa@outlook.com।