পাহাড়, ঝর্ণা আর বন্ধুত্বের স্মৃতিতে এক প্রশান্তিদায়ক মে দিবসের ছুটি
চীনে মে দিবসের ছুটি শুধু শ্রমিকদের অবদানকে সম্মান জানানোর একটি জাতীয় ছুটি নয়; এটি একই সঙ্গে ভ্রমণ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার একটি জনপ্রিয় সময়। প্রতি বছর এই ছুটিতে চীনের বিভিন্ন প্রদেশের দর্শনীয় স্থান, পাহাড়, গ্রাম, ঐতিহাসিক এলাকা, পার্ক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্রসমূহে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভ্রমণ করেন। ২০২৬ সালের ১–৫ মে পর্যন্ত পাঁচ দিনের মে দিবসের ছুটিতে চীনে প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন অভ্যন্তরীণ পর্যটন ভ্রমণ রেকর্ড করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৪৯,৪০০টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ৮৮ মিলিয়ন দর্শনার্থী অংশ নেন।
এই উৎসবমুখর ছুটির আবহে, মে দিবসের ছুটিকে কেন্দ্র করে চীনের আনহুই প্রদেশের হুয়াংশান শহরের শিউনিং কাউন্টির ইউয়ানফাং টাউনশিপের জিয়ুয়ান ভিলেজে এক মনোমুগ্ধকর ডে-ট্রিপে অংশ নেন একদল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ব্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতেই ছিল তাদের এই ছোট্ট আয়োজন। ৪ মে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধু মিলে দিদি গাড়ি বুক করে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের পথ পেরিয়ে তারা পৌঁছে যান সবুজে ঘেরা পাহাড়ি এলাকায়। শুরুতে ধারণা ছিল, পাহাড়ে উঠতে মাত্র ২০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। তবে বাস্তবে পথটি ছিল কিছুটা দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং। প্রায় ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পাহাড়ে ওঠার পরও চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়।
পুরো পাহাড়ি পথটি ছিল সবুজ গাছপালা, ঠান্ডা বাতাস এবং নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশে ভরপুর। শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সেখানে ঘুরে বেড়ান, ছবি তোলেন, গল্প করেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং মনোরম দৃশ্য তাদের কাছে দিনটিকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাহাড়ি ঝর্ণা। উঁচু পাথুরে পাহাড় থেকে স্বচ্ছ সাদা পানি ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছিল, আর চারপাশে ছিল ঘন সবুজ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। ঝর্ণার কাছাকাছি দাঁড়ালে ঠান্ডা পানির বাতাস মুখে এসে লাগছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অত্যন্ত সতেজ ও প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। ঝর্ণার পানির মৃদু শব্দ পুরো পরিবেশকে আরও শান্ত ও স্নিগ্ধ করে তুলেছিল।
দীর্ঘ সময় পাহাড়ে ওঠার পর ঝর্ণার সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মনে হয়েছিল, যেন সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর হয়ে গেছে। শহরের কোলাহল ও ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনের বাইরে এই জায়গাটি ছিল এক শান্ত, নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল। কাছেই থাকা ছোট ও আরামদায়ক একটি কফি শপ পুরো ভ্রমণকে আরও সুন্দর ও স্মরণীয় করে তোলে।
এই ছোট্ট ডে-ট্রিপটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আনন্দ, বন্ধুত্ব এবং মানসিক প্রশান্তির এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময় তাদের কাছে ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্থান: 中国安徽省黄山市休宁县源芳乡梓源村
Raoha
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : news.bcysa@outlook.com।