একটি ই-বাইক ও আমাদের চীনের গল্প
অজয় কান্তি মন্ডল: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি
ক্যাম্পাস আছে। প্রধান ক্যাম্পাস ফুজো শহরের কাছাকাছি এবং শাখা
ক্যাম্পাস শহর থেকে বেশ দূরে। দুই ক্যাম্পাসের মধ্যবর্তী
দূরত্ব ১০ কি. মি. এর মত। ক্যাম্পাস দুটির ভিতরে যাতায়াতের
জন্য একটি শাটল বাস সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যায় মোট তিনবার যাতায়াত করে। যেহেতু দুই
ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও শিক্ষামূলক কাজের আলাদা ব্যবস্থা উভয় ক্যাম্পাসে আছে,
তাই বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রীদের এক ক্যাম্পাস থেকে অন্য
ক্যাম্পাসে খুব বেশি যাতায়াতের দরকার পড়েনা।
শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের
জন্য মাঝেমধ্যে একটু
সমস্যা হয়ে পড়ে। ইন্টারন্যাশনাল
ছাত্রছাত্রীদের ডরমেটরি
শুধুমাত্র প্রধান ক্যাম্পাসে হওয়ায় শাখা ক্যাম্পাসে
তাদের থাকার কোন সু-ব্যবস্থা নেই। সেজন্য যেসব ইন্টারন্যাশনাল
ছাত্রছাত্রীদের ল্যাব শাখা ক্যাম্পাসে অবস্থিত তাদের ল্যাবের কাজের জন্য প্রধান
ক্যাম্পাস থেকে শাখা ক্যাম্পাসে যাতায়াত করা লাগে। যেহেতু ল্যাবের কাজে
ছাত্রছাত্রীরা একটু স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে অর্থাৎ ইচ্ছামত ল্যাবে আসা যাওয়া করে,
তাই ছাত্রছাত্রীদের শাটল বাসের নিয়ম মেনে এক ক্যাম্পাস থেকে অন্য ক্যাম্পাসে আসা
যাওয়া করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে এই শাটল বাসের পরিসেবা
ও বন্ধ থাকে।
আমি প্রথম যখন এখানে আসলাম তার কিছুদিন পরেই জানতে
পারলাম আমার ল্যাব শাখা ক্যাম্পাসে। জানার
পরে মনে মনে একটু খারাপই লেগেছিল। কেননা তন্মধ্যে প্রধান ক্যাম্পাসের সাথে আমার
বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। কিছুই করার নেই, অন্যান্য ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের
মত প্রধান ক্যাম্পাস থেকেই আমাকে ল্যাবে যাতায়াত করতে হবে। প্রথম দিন শাখা
ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম শাটল বাস দিয়ে। পাকিস্তানী এক পোস্ট ডক্টরাল ফেলো আমাকে এ
ব্যাপারে সাহায্য করেছিল। শাটল বাস পরিসেবা খুব ভালো হলেও বাসের শিডিউল মেনে চলাটা
আমার পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ই-বাইক কেনা ছাড়া এই পথ বাসে
যাতায়াত সম্ভব না। তাছাড়া ভেবেছিলাম পরিবার আনলেও ই-বাইকে চেপে এদিক সেদিক ঘুরতে
পারব। যেই কথা সেই কাজ। আসার মাস খানিকের ভিতরই ই-বাইক কিনে ফেললাম।
ছোট থাকতে বহু শখ ছিল একটা পেট্রোল বাইক কেনার। সেই শখ পূরণ করার মত আর্থিক সচ্ছলতা পরিবারের থাকলেও বাবা কাকার ভিতরে তেমন ইচ্ছাটা ছিলনা। তাই ভাবতাম নিজের কখনো সামর্থ্য হলে ওই শখটা পূরণ করব। সেজন্য চীনে এসে প্রথম মাসের স্কলারশিপের টাকা জমিয়ে ই-বাইক কেনার পরে নিজের মনে বিশাল ফুর্তির আমেজ কাজ করছিল। বর্তমানে গ্রামের স্কুল কলেজের বন্ধু বান্ধবদের সবারই পেট্রোল বাইক আছে। গ্রামে গেলে তাদের পেছনে বসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : news.bcysa@outlook.com।