লানজু টু ছিংহাই
ফারজানা লিজাঃ পনেরো মাসের চায়না জীবনে নিজের প্রভিন্স ছাড়া শুধু একটি মাত্র পাশের প্রভিন্সে ঘোরার সুযোগ হয়েছিল। কত যে পরিকল্পনা ছিল একটু বন্ধ পেলেই ছুটে যাবো এদিক সেদিক, কিন্তু করোনা ভাইরাস আসায় আপাতত সেই প্রজেক্ট স্থগিত করতে হয়েছে। তবে আবার সময় আসলে বেরিয়ে পড়বো। কারণ আমি একজন ভ্রমণ বিলাসী মানুষ।
চায়না আসার পর থেকেই এখানকার বাংলাদেশীদের ঘুরতে যাওয়ার গল্প শুনতে শুনতে আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে ঘুরতে নেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করলাম। আমার পিড়াপিড়িতে ভার্সিটির ছোটো দুই ভাই রাজি হলো। তো যেই বলা সেই কাজ। তখনও আমার পাসপোর্ট ভিসা অফিসে জমা দেয়া। হাতে আছে ফটোকপিকৃত এক টুকরো কাগজ, যাতে লেখা কবে আমি আমার পাসপোর্ট হাতে পাবো। এখানে এক প্রভিন্স থেকে অন্য প্রভিন্সে ট্রেন অথবা প্লেনে যেতে হলে পাসপোর্ট দিয়ে টিকেট কাটতে হয়। যা-ই হোক, ঐ ফটোকপি পেপারটা দিয়েই টিকেট কাটতে পারলাম।
যেহেতু একেবারেই পাশের প্রভিন্স তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ট্রেনে যাবো। ট্যুর একদিনের তাই কোনো ল্যাগেজ টানাটানির ঝামেলা থাকলো না। ভোর চারটার ট্রেনে যাত্রা শুরু করলাম। তিন ঘন্টা ট্রেন জার্নির পর পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। ছিংহাই প্রদেশ চায়নার আরেকটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল।

আমাদের আগে থেকেই একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে যুক্তিবদ্ধ করে নেয়া ছিল। তাই ট্রেন থেকে নেমেই কোনো রকম ঝামেলায় পড়তে হলো না। সরাসরি ট্যাক্সিতে উঠে শহরের দিকে আমরা রওনা হলাম। সকালের নাস্তার জন্য ড্রাইভার ওখানকার একটা বিখ্যাত বাওজি (bao zi-包子, streamed stuffed bun, আটা দিয়ে তৈরি একটি খাবার যেটার ভিতরের পুরটাতে মাংস অথবা সবজি দেয়া থাকে) রেস্তোরাঁতে নিয়ে গেল। বাওজি চায়নার একটি অন্যতম খাবার।
সকালের নাস্তার পর যাত্রা শুরু হলো ছিংহাই প্রদেশ ঘুরে দেখার। যেহেতু আমাদের একদিনের ট্যুর তাই আমার মূল দর্শনীয় স্থান ছিল ছিংহাই সল্ট লেক। আর ঠিক হলো যাত্রা পথে যেসব জায়গা পড়বে সেগুলো একনজর দেখে নিবো।

পথে দু-তিন জায়গায় যাত্রা বিরতির পর পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত সল্ট লেকে। মনে হচ্ছিল কোনো এক সাদা নগরীতে
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : news.bcysa@outlook.com।